শিশুদের শেখাতে পারেন ৩ সহজ যোগাসন
আজ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সুস্থ শরীরের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজন হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগচর্চা শুধু শরীরকে নমনীয় করে না, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মানসিক একাগ্রতাও বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে মানুষ ক্রমেই বিভিন্ন কাজের জন্য যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
ফলে অনেক ক্ষেত্রেই স্মৃতির ব্যবহার কমে যাচ্ছে। বয়স নির্বিশেষে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, মনোযোগের ঘাটতি এবং মানসিক চাপ এখন সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি যোগচর্চাও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
যোগ প্রশিক্ষকদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট আসন স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে এবং মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে।
শিশুদের ক্ষেত্রেও এসব আসন উপকারী হতে পারে।
পশ্চিমোত্তাসন
মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত এই আসনটি ‘সিটেড ফরোয়ার্ড বেন্ড’ নামেও পরিচিত। এ আসনে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পায়ের আঙুল স্পর্শ করার চেষ্টা করা হয়। নিয়মিত অভ্যাসে শরীরের নমনীয়তা বাড়ার পাশাপাশি মনোযোগ বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে।
বৃক্ষাসন
ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম জনপ্রিয় যোগাসন হলো বৃক্ষাসন। এক পায়ে দাঁড়িয়ে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে হয় বলে এটি মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। শিশুদেরও এ আসন শেখানো যেতে পারে।
সর্বাঙ্গাসন
সর্বাঙ্গাসনকে অনেকেই যোগব্যায়ামের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি বলে মনে করেন। এতে শরীরের প্রায় সব অংশ সক্রিয় থাকে। তবে এ আসন তুলনামূলক জটিল হওয়ায় প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে অনুশীলন করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগচর্চা মানসিক চাপ কমাতে, মনোযোগ বাড়াতে এবং স্মৃতিশক্তি সচল রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে যাদের ঘাড়, মেরুদণ্ড বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের নতুন কোনো যোগাসন শুরু করার আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে সুস্থ জীবনযাপনের অংশ হিসেবে পরিবারে শিশুদেরও যোগব্যায়ামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। নিয়মিত অনুশীলন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।




