শিরোনাম

Space for ads

বিশ্বে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে এআই টিকা

 প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন   |   ভ্যাকসিন

বিশ্বে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে এআই টিকা
Space for ads


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে নতুন ধরনের একটি টিকা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। 

গবেষকদের মতে, এই ভ্যাকসিন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে, যার মধ্যে করোনার সবগুলো ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে। পাশাপাশি পশুপাখির শরীরে থাকা সেসব ভাইরাসও রয়েছে, যা মানুষের মধ্যে ভবিষ্যতে মহামারি ছড়াতে পারে।

গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, এই প্রথম কোনো টিকার মূল উপাদানগুলো পুরোপুরি এআই দিয়ে নকশা করা হয়েছে। এরই মধ্যে মানুষের ওপর এটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগও করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে গবেষক দল ইতোমধ্যে এআইয়ের মাধ্যমে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ইবোলার বিরুদ্ধে একই ধরনের ভ্যাকসিন তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

এটি যেভাবে কাজ করে

টিকা মূলত আমাদের শরীরকে কোনো ভাইরাস বা রোগজীবাণু শনাক্ত করতে শেখায়, যাতে সংক্রমণ হলে শরীর দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তবে অনেক ভাইরাস সময়ের সঙ্গে নিজেদের গঠন বদলে ফেলে। যাকে মিউটেশন বা রূপান্তর বলে। ফলে পুরোনো টিকা কম কার্যকর হয়ে যায়। এ কারণেই করোনা ও মৌসুমি ফ্লুর টিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়।

গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক জোনাথন হিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় ভাইরাসের পেছনে ছুটে চলি। আমাদের লক্ষ্য হলো ভাইরাসের আগেই প্রস্তুত থাকা, যাতে নতুন প্রাদুর্ভাব বা মহামারী শুরু হওয়ার আগেই সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়।’

গবেষকরা আশা করছেন, এআই নির্ভর এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও দ্রুত ও কার্যকর টিকা তৈরি করা যাবে এবং নতুন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিশ্ব ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে পারবে।

সাধারণত কোনো ভাইরাসের বর্তমান ধরন বা স্ট্রেইনকে ভিত্তি করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। কিন্তু এবার গবেষকরা ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের করোনা ভাইরাসের জেনেটিক কোড (তথ্য) সংগ্রহ করেন। যেখানে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এমন ভাইরাস শনাক্ত করা হয়।

এরপর এই জেনেটিক কোডগুলো একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ তৈরি করে। যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারে যে এটি ভাইরাসের সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করতে শেখে। এমনকি ভাইরাসের রূপ পরিবর্তন হলেও বা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে নতুন কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও এটি কার্যকর থাকতে পারে।

গবেষণা দলের সদস্য অধ্যাপক জোনাথন হিনি বলেন, ‘এই প্রথম এআই দ্বারা তৈরি কোনো অ্যান্টিজেন মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে এরং প্রযুক্তিটি বিজ্ঞানীদেরও বিস্মিত করেছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এমন টিকা তৈরি করা, যা শুধু বর্তমানের ভাইরাস থেকে নয়, ভবিষ্যতে নতুন রোগ বা প্রাদুর্ভাবের কারণ হতে পারে এমন ভাইরাস থেকেও মানুষকে সুরক্ষা দেবে।’

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে মহামারীর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তখন বিজ্ঞানীরা নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর টিকা তৈরির পরিবর্তে আগেভাগেই সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ে তুলতে পারবেন।

মানুষের উপর পরীক্ষা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নতুন ধরনের টিকার প্রাথমিক মানব পরীক্ষায় ৩৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল টিকাটি মানুষের জন্য নিরাপদ কি না তা যাচাই করা। গবেষকরা বর্তমানে প্রায় ২০০ জনকে নিয়ে বড় একটি পরীক্ষা চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করছে, তা বোঝা যাবে।

বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, টিকাটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর এখন পর্যন্ত সামান্য প্রভাব দেখিয়েছে। তবে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও যত্ন গবেষণা জাতীয় ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক অধ্যাপক মেরিয়ান নাইট এই গবেষণাকে পৃথিবীর জন্য একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি উল্লেখ করে বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি এই ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’-এর সফল পরীক্ষা প্রমাণ করছে যে ভবিষ্যতে বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান নতুন এক দিগন্তের দিকে এগোচ্ছে। তার মতে, এটি টিকা প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।


BBS cable ad