ক্যাম্পাস-শিক্ষক সংকটে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য
দেশে বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম শুরু বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ১৯৮৬ সালে। প্রতিষ্ঠার চার দশকেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ, নিজস্ব কোন ক্যাম্পাস নেই মেডিকেল কলেজটির। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি নেই পর্যাপ্ত টিউটোরিয়াল রুম। অথচ আইন বলছে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হতে হবে নিজস্ব অন্তত দুই একর জমিতে। একই ক্যাম্পাসে মেডিকেল ভবনও হতে হবে ভিন্ন। হাসপাতালে সহ্যা সংখ্যা হতে হবে প্রতি শিক্ষার্থীর বিপরীতে পাঁচটি, আর ১০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক থাকবেন একজন। শিক্ষার্থীদের জন্য থাকতে হবে আলাদা হোস্টেল সুবিধাও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট নেই, পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, পর্যাপ্ত ল্যাব ফ্যাসিলিটি নেই—আপনি তাদেরকে ডাক্তারের সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিলেন। সে নিজেকে ডাক্তার দাবি করতেছে, সে যখন ট্রিটমেন্ট করবে অর্থাৎ আপনার জীবনটা তার হাতে ছেড়ে দিলেন। কত ভয়ঙ্কর কথা! এটার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তো দেশের মানুষ দিনশেষে।
শুধু বাংলাদেশ মেডিকেল নয়—এ তালিকায় আছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল, আনোয়ার খান মডার্ন, সমরিতা, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল, কিশোরগঞ্জের আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস, গাজীপুরের তাইরুন্ নেসা ও রংপুরের নরদান মেডিকেল কলেজ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, নীতিমালার শর্ত পুরোপুরি মানছে না ৭৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অন্তত ৫১টি। ফলে ফলে মানহীন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে না মানসম্মত চিকিৎসক।
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, তারা অনেক ক্ষেত্রেই তারা বাণিজ্যিক দিকটাকে প্রাধান্য দেয় এবং তাদের শিক্ষার মান অনেক ক্ষেত্রে হয়তো কম্প্রমাইজ হয়। এখান থেকে যারা পাস করবে, তারা অবশ্যই সঠিক সেবা দিতে পারবে না এবং এটা একটা ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে আমাদের জনস্বাস্থ্যের ওপরে। এটা একটা হুমকি।
এসব প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কলেজ নিয়মিত তদারুকী করলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নজির নেই। বেশির ভাগ মেডিকেল কলেজ অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনার বিষয়টি, রয়েছে বাণিজ্যিক গুরুত্বও। এর ফলে তৈরি হচ্ছে না গুণগত মানের চিকিৎসক। হুমকিতে পড়ছে দেশের স্বাস্থ্যখাত আর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।




