বিএমইউতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে এ স্বরণসভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন সৎ, সাহসী, নির্ভীক ও আপসহীন ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর জীবনাদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, এমপি, বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এবং বিএমএ ও ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্মরণসভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এবিএম ছফিউল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ ও সংগ্রামী মানুষ ছিলেন। তিনি স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং আমৃত্যু সেই আদর্শ ধারণ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার মূল্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে বিএমইউকে দেশের অন্যতম সেরা চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে না পারলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানতে এবং তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
বিএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত, ইতিবাচক ও পরোপকারী মানুষ। শিক্ষকতা ও চিকিৎসাসেবায় তিনি যেমন অবদান রেখেছেন, তেমনি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসিবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেসিডেন্ট চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-চিকিৎসক এবং অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের পরিবারের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইন্তেকাল করেন। তিনি একজন প্রথিতযশা চক্ষু বিশেষজ্ঞ (অফথালমোলজিস্ট) ছিলেন এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।




