শিরোনাম

Space for ads

দেশে ব্রেইন ক্যান্সার চিকিৎসায় সাফল্য, ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীকে সফলভাবে ৩০টি রেডিওথেরাপি

 প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন   |   চিকিৎসা

দেশে ব্রেইন ক্যান্সার চিকিৎসায় সাফল্য, ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীকে সফলভাবে ৩০টি রেডিওথেরাপি
Space for ads

মস্তিষ্কের নিচের অংশে হওয়া এক ধরনের মারাত্মক ক্যান্সারের (ম্যালিগন্যান্ট ব্রেইনস্টেম গ্লিওমা) চিকিৎসায় নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় প্রথমবারের মতো ব্রেন স্টেমে আক্রান্ত ১৮ বছর বয়সী তরুণের সফলভাবে ৩০টি রেডিওথেরাপি সেশন সম্পন্ন করেছে হাসপাতালটি।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, রোগের জটিলতা, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ম্যালিগন্যান্ট ব্রেইনস্টেম গ্লিওমায় ভুগছিলেন ওই তরুণ। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। শরীরের বাম পাশে দুর্বলতা, কথা বলতে সমস্যা (ডিসফেসিয়া) এবং খাবার গিলতে গিয়ে বারবার শ্বাসনালীতে খাবার প্রবেশের (অ্যাসপিরেশন) ঝুঁকি দেখা দেয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি তীব্র কার্ডিওরেসপিরেটরি ফেলিউরে আক্রান্ত হন। পরে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা সম্ভব না হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং গুরুতর অবস্থায় এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের ভিজিটিং কনসালট্যান্ট ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী পরিবারের সম্মতিক্রমে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই রেডিওথেরাপি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

চিকিৎসকরা জানান, ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা একজন সংকটাপন্ন রোগীকে ৩০টি রেডিওথেরাপি সেশন সফলভাবে সম্পন্ন করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং একটি প্রক্রিয়া, যা বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রথম।

সমন্বিত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁকে ভেন্টিলেটর থেকে সরানো সম্ভব হয় এবং পরে ট্র্যাকিওস্টোমি টিউবও অপসারণ করা হয়। গিলে খাওয়ার সক্ষমতা ফিরে আসায় এনজি টিউব খুলে দেওয়া হয় এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে মুখে খাবার গ্রহণ শুরু করেন। গেজ ফিজিওথেরাপি ও বিশেষায়িত পুনর্বাসনের মাধ্যমে বর্তমানে তিনি ওয়াকারের সহায়তায় হাঁটতে সক্ষম হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে কনট্রাস্ট এমআরআই ফিউশন পরীক্ষায় টিউমারের উল্লেখযোগ্য উন্নতিও দেখা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় আইসিইউ পরিবেশে রেডিওথেরাপি দেওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। সফলভাবে ৩০টি রেডিওথেরাপি সেশন সম্পন্ন করে রোগীকে ভেন্টিলেটর থেকে মুক্ত করা এবং তাঁর স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারা আমাদের পুরো দলের অন্যতম বড় অর্জন। এই রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাতে পেরে এবং এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের সমন্বিত মেডিকেল টিমের এই অসাধারণ প্রচেষ্টার অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।’

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের মেডিকেল সার্ভিসেস ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, প্রতিটি রোগীর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশেই আন্তর্জাতিক মানের জটিল ক্যান্সার চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

হাসপাতালের চিফ অপারেটিং অফিসার সামির সিং বলেন, এ ধরনের জটিল চিকিৎসায় শুধু আধুনিক প্রযুক্তিই নয়, প্রয়োজন দক্ষতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং বহুমাত্রিক চিকিৎসক দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা। এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের জটিল ক্যান্সার চিকিৎসা এখন চট্টগ্রামেই সম্ভব।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই চিকিৎসা সফল করতে রেডিয়েশন ও মেডিকেল অনকোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ইন্টারনাল মেডিসিন, রেসপিরেটরি মেডিসিন, কার্ডিওলজি, ইএনটি, ফিজিওথেরাপি, নিউট্রিশন এবং নার্সিং বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন।

এদিকে রোগীর পরিবার চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই রোগী নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন।





BBS cable ad

চিকিৎসা এর আরও খবর: