বিএমইউতে মুখগহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধে আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে সেমিনার
বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (বিএমইউ) মুখগহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধ, আধুনিক শল্যচিকিৎসা ও চিকিৎসাগত উদ্ভাবন নিয়ে ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিএমইউর এ ব্লক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সেমিনারে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, আধুনিক চিকিৎসা, রোগ প্রতিরোধ এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহমেদ নাদিম আব্বাসি।
উপাচার্য বলেন, এ ধরনের সেমিনার মুখগহ্বরের ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিএমইউ ও আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং ক্যান্সার চিকিৎসায় সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার মুখগহ্বরের ক্যান্সারকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি এইচপিভি ভাইরাসকেও মুখগহ্বরের ক্যান্সারের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সেমিনারে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন বিএমইউতে আধুনিক রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপিসহ সমন্বিত ক্যান্সার চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ডা. মাহমুদা আক্তার জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মুখগহ্বরের ক্যান্সার একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা এবং বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। পান, জর্দা, গুল, সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, অপুষ্টি এবং রোগ নির্ণয়ে বিলম্বকে এ রোগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক বর্জন এবং নিয়মিত মুখগহ্বর পরীক্ষা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি জানান।
এছাড়া সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত আধুনিক শল্যচিকিৎসায় ভার্চুয়াল সার্জিক্যাল প্ল্যানিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা অংশ নেন।




