ডেঙ্গু প্রতিরোধে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন
বুধবার (২৪ জুন) দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশা নিধন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধান করে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার।
আজ সকালে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় টাস্কফোর্সের প্রথম মাঠপর্যায়ের অভিযান ও গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন টাস্কফোর্স প্রধান ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় কমিটি গঠন করা হয়। এ টাস্কফোর্সে ডিএমপি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
অভিযান শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ কীভাবে কাজ করছে এবং প্রচার-প্রচারণা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা মাঠে নেমেছি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অ্যাডিস মশা প্রজননের জন্য কামড়াতে মানুষের রক্ত খোঁজে। তাই দিনের বেলা সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এত সুন্দর সুন্দর ভবনের কোথাও লার্ভা না থাকলেও, ছোট্ট একটি বালতিতে জমে থাকা পানিতে লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। এই অসচেতনতাই ডেঙ্গুর মূল কারণ।
তিনি জানান, টাস্কফোর্সের চিরুনি অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হবে। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে স্বচ্ছ পানি জমে থাকতে পারে এমন স্থানে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ট্যাবলেট ব্যবহারে ৩০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।
নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও ব্যালকনি পরিষ্কার রাখতে কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
অভিযান চলাকালে গুলশান-২ এর ১০৭ নম্বর সড়কে ‘চয়েজ’ নামের একটি রেস্টুরেন্টে বিপুল পরিমাণ এডিস মশার লার্ভা ও লার্ভার উৎপত্তিস্থল শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় অসচেতনতা ও অবহেলার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
এ ছাড়া আশপাশের কয়েকটি বহুতল ভবনেও তল্লাশি চালানো হয়। অধিকাংশ ভবনের ছাদ পরিষ্কার পাওয়া গেলেও একটি ভবনের নিচে ফেলে রাখা বালতিতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ টাস্কফোর্সের সদস্যরা।




