বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেট অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যয়ের আহ্বান প্রজ্ঞার
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দীর্ঘদিন ধরে মোট জাতীয় বাজেটের প্রায় পাঁচ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার তা সাত দশমিক চার শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির এক দশমিক এক শতাংশে উন্নীত হওয়ার প্রস্তাব এসেছে, যা আগে ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে এই বাড়তি বরাদ্দ কার্যকরভাবে ব্যয় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেসরকারি গবেষণা ও নীতি-অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা বলছে, বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে। অথচ এ খাতে ব্যয় করা হয় মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র চার দশমিক দুই শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’ অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ এটি।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় দুই লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল উচ্চ রক্তচাপ।
গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় এক টাকা বিনিয়োগ করলে সামগ্রিকভাবে ১৮ টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়। তবে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাবে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, ‘বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগ করা হলে জনস্বাস্থ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।’




