রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানো ও বিজ্ঞানভিত্তিক সেবা নিশ্চিতে বিএমইউতে প্রশিক্ষণ
সোমবার (২২ জুন) ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিন (ইভিএম) বিষয়ে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এতে বিভিন্ন বিভাগের ২৬৯ জন ফ্যাকাল্টি ও সিনিয়র চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।
ইভিএম বা প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বিদ্যা, রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানো, বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদান নিশ্চিত, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধিতে বিরাট অবদান রাখতে পারে।
আজ প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
এতে বিএমইউর ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম এবং সঞ্চালনা করেন আইকিউএসসির অতিরিক্ত পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দীনে মুজাহিদ মো. ফারুক ওসমানী।
তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজ্ঞজনেরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ-নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পিকো ফ্রেমওয়ার্ক, দি ইমপরটেন্স অফ মেডিক্যাল অডিট, ক্লিনিক্যাল অডিট সাইকেল ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।
কর্মশালার বক্তারা বলেন, ক্লিনিক্যাল প্রাকটিসে ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ রোগীর চিন্তা, আগ্রহসহ রোগীর অধিকারের বিষয়ে চিকিৎসককে সর্বাদা খেয়াল রাখতে হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে চিকিৎসকদের প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণ করাসহ এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভের মাধ্যমে দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নাই।
বক্তারা আরও বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বিরাট অবদান রাখছে। তাই প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যার বিষয়ে মেডিক্যাল পেশার সাথে জড়িত শিক্ষক, চিকিৎসকদের জ্ঞান অর্জন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, গবেষণা, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে যদি প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যকর করা যায়, তবে একটি ন্যায্য ও দক্ষ স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা রোগী তথা জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। একই সাথে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যার চর্চাকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে রোগীদের অধিকার নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যসেবাখাতে গুণগত পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
উল্লেখ্য, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার চর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় বিএমইউতে প্রথমবারের মতো ‘ওয়ার্ল্ড ইভিডেন্স-বেইসড হেলথকেয়ার ডে’ উদযাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএমইউ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ‘এভিডেন্স অ্যাম্বাসেডর’ খেতাবও অর্জন করেছে।




