হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ভয়? ঝুঁকি কমাতে করণীয় জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
বিশ্বে প্রতিদিনই হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। আগে থেকে হার্টের সমস্যার উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে বলা হয়। কারণ, হৃদরোগ জনিত সমস্যা থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো হুট করেই অ্যাটাক হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হয়।
হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রথমেই নিজ থেকে বুঝতে হবে, এটি কোনো একক বা সহজ সমাধানের পথ নয়। ভারতের হার্ট ফাউন্ডেশন বোর্ড প্রত্যয়িত হার্ট সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডনের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানোর ব্যাপারটি বহুমাত্রিক এবং এর জন্য জীবনযাপনের ক্ষেত্রে পাঁচটি পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক তাহলে-
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়:
এ বিষয়ে ডা. জেরেমি জোর দিয়ে বলেন, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এ জন্য মানুষকে সব ধরনের ধূমপান ও ভ্যাপিং থেকে বিরত থাকতে হবে। বাসা-বাড়িতে কঠোরভাবে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোলেস্টেরলের দিকে খেয়াল রাখা, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ধূমপান:
ডা. জেরেমির মতে সবার আগে ধূমপান এড়িয়ে চলা উচিত। ভ্যাপিং, সিগারেট বা মারিজুয়ানোসহ (গাঁজা) যেকোনো ধরনের ধূমপান থেকে বিতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
কোলেস্টেরলড:
এ হার্ট সার্জন বলেন, কোলেস্টেরল হচ্ছে হৃদরোগের অন্যতম কারণ। ল্যাব টেস্টের অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি এবং লিপোপ্রোটিন এ-এর মাত্রা জানা প্রয়োজন। ক্লিভল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি-১০০ পরীক্ষা হচ্ছে একটি রক্ত পরীক্ষা, যা আপনার হৃদরোগের (কার্ডিওভাসকুলার রোগ) ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে। আবার লাইপোপ্রোটিন এ পরীক্ষা রক্তে উপাদানটির মাত্রা পরিমাপ করে থাকে। এর উচ্চ মাত্রা থাকার কারণ হয়তো হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির জন্য হতে পারে।
নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা:
রক্তচাপ যদি উচ্চ থাকে, তাহলে তা নিয়মিত পরীক্ষার ওপর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. জেরেমি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে উচ্চ রক্তচাপ। বাসা-বাড়িতে একটি রক্তচাপ মাপার যন্ত্র রেখে দিতে পারেন।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এড়িয়ে চলা:
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চিনির পরিমাণ সীমিত করা বা কমানো উচিত বলে জানিয়েছেন ডা. জেরেমি। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এটি প্রয়োজন।
ডা. জেরেমি বলেন, এসব বিষয় মেনে চলা উচিত। তবেই পরিস্থিতি আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে ঝুঁকিও কমে আসবে। না হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।




