দুর্গম চরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নৌকাভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল চালু করা প্রয়োজন’
দুর্গম চরের মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কেবল মোবাইল ভ্যান নয়, 'বোট-বেসড' বা নৌকা-ভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
বুধবার (১৫ জুলাই) পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘প্রকৃতি ও স্বাস্থ্য: জলবায়ু-সহনশীল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ইউএনওপিএস বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিমসটেক এবং সুইডেন দূতাবাস।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে দেশ। এই বিশাল আর্থিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী আরও বড় প্রকল্প গ্রহণ করবে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতি পূরণে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে একটি জলবায়ু-সহনশীল 'ডিজিটাল ই-হেলথ সিস্টেম' গড়ে তোলার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, আমার নিজের নির্বাচনী এলাকা যমুনা নদীর তীরে এবং বর্তমানে সেখানে বন্যা পরিস্থিতি চলছে। দুর্গম চরের মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কেবল মোবাইল ভ্যান নয়, 'বোট-বেসড' বা নৌকা-ভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
ডা. মুহিত বলেন, আমরা যদি জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন কিছু না করি, তবে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি বছর ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বোঝা আমাদের বইতে হবে। এই ক্ষতি এড়াতে আমাদের এখনই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
নতুন অর্থ বছরের বাজেট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেট বছরের শুরুতেই এই গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় অত্যন্ত ভালো হয়েছে। এই আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ ও সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনটি দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে, আমরা এখনও বাজেটে এর শিক্ষণীয় বিষয় ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে পারব।
অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জলবায়ু গবেষক এবং সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




