শিরোনাম

Space for ads

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, উচ্চ ঝুঁকিতে আট ওয়ার্ড

 প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন   |   চিকিৎসা

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, উচ্চ ঝুঁকিতে আট ওয়ার্ড
Space for ads

শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রামে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সাধারণ জ্বরের পাশাপাশি শক সিন্ড্রোমের মতো জটিল উপসর্গ নিয়েও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেক রোগী। পরিস্থিতি বিবেচনায় নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে আগামী কয়েক মাস আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ৩৭ জন। তবে জুলাই মাসের অর্ধেকের মধ্যেই এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৪ জনে। অর্থাৎ মাত্র আড়াই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন চার হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত হন। চলতি বছরের ১৪ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে দুজনের।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী গণমাধ্যমে বলেন, ‘ডেঙ্গু এবং মিজেলস যেহেতু দুইটাই ভাইরাসজনিত রোগ, দুইটাতেই জ্বর নিয়ে শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে আসলে আলাদা করা মুশকিল হতে পারে। ডেঙ্গুতেও কিন্তু র‍্যাশ দেখা যায় যেটা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিরভাগ রোগী জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও ডায়রিয়ার মতো শক সিন্ড্রোমের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামও ভাইরাসজনিত হওয়ায় শুরুতে দুটি রোগের উপসর্গ অনেক সময় মিল থাকায় রোগ নির্ণয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে চট্টগ্রাম নগরীর আটটি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি ও আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমে বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট করে মানুষকে সতর্ক করা বা মানুষকে যাতে জরিমানা আনা যায় সেইভাবে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা। তবে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা মানুষকে সচেতনতা দিচ্ছি, লিফলেট বিতরণ করছি এবং হটস্পটগুলোতে বেশি বেশি করে ওষুধ ছিটানোর জন্য আমরা আমরা পরামর্শ দিচ্ছি।’

চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু কিটস আমরা রেখেছি এবং আমাদের ডেঙ্গু চিকিৎসায় যে আইভি ফ্লুইডগুলি ব্যবহৃত হয় সেগুলোও আমরা আমরা মজুদ করেছি। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।’

প্রতি বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি থাকে। বছরের মোট আক্রান্তের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী এই সময়েই শনাক্ত হন। তাই বিশেষজ্ঞরা এ সময় জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।





BBS cable ad

চিকিৎসা এর আরও খবর: