মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চিকিৎসা ঘাটতি ৯২.৩%
দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য মাত্র ০.০৭৩ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ০.১২ জন মনোবিজ্ঞানী রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চিকিৎসা ঘাটতি ৯২.৩ শতাংশ।
এমন বাস্তবতায় কিশোর-কিশোরীদের সহজলভ্য ও মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কিশোরবান্ধব সেবা কেন্দ্রগুলোতে (এএফএইচসি) ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার (ভিপিএল) মডেল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার (ভিপিএল) মডেলের পক্ষে সমর্থন গড়ে তুলতে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন এবং অংশীজনদের নিয়ে জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে’ এ আহ্বান জানানো হয়।
জিএইচএআই অ্যাডভোকেসি অ্যাক্সেলারেটরের সহযোগিতায় এ আয়োজন করে সিরাক-বাংলাদেশ।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশে প্রায় ১৬.৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩.৬ শতাংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে।
তবে জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ০.৪৪ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকায় প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার (ভিপিএল) মডেল একটি কার্যকর, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও টেকসই উদ্যোগ হতে পারে।
প্রশিক্ষিত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কিশোরবান্ধব সেবা কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ, আস্থাপূর্ণ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উৎসাহ, সময়মতো রেফারেল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মতিউর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন সহকারী পরিচালক (এমসিএইচ) ডা. মো. মনজুর হোসেন, ডা. রিফ ওয়াসিমা পারভীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (স্কুল হেলথ) ডা. আসিফ ইকবাল, ডা. আবুজামিল ফয়সাল, ডা. জেবুননেছা রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। দুইজন ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে কাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।
সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত বলেন, ভিপিএল মডেলকে নীতিগতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক করা গেলে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর হবে। প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হাসান উপস্থাপনায় ভিপিএল মডেলের কার্যক্রম, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, ভিপিএল মডেল শুধু মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতেই নয়, তরুণদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, অ্যাডভোকেসি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য কিশোরবান্ধব সেবা কেন্দ্রগুলোতে এ মডেল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার, আন্তঃখাত সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।




