চিকিৎসা পর্যটনে একসঙ্গে কাজ করবে বাটিক এয়ার-আইজেএন
মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা পর্যটন আরও সম্প্রসারণ এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে দেশটির বিমান সংস্থা বাটিক এয়ার, ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন) এবং ট্যুরিজম মালয়েশিয়া। এই উদ্যোগের আওতায় আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা ভ্রমণ ও বিমান ভাড়ায় বিভিন্ন ধরনের বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ফ্লাই হাই উইথ আ হেলদি হার্ট’ কর্মসূচির আওতায় বাটিক এয়ারের আন্তর্জাতিক যাত্রীরা আইজেএনের ‘এসেনশিয়াল হেলথ স্ক্রিনিং’ প্যাকেজে ১৫ শতাংশ মূল্যছাড় পাবেন।
বৈধ বোর্ডিং পাস প্রদর্শনের মাধ্যমে এই সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। ছাড়ের পর প্যাকেজটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৬৫ রিঙ্গিত।
এ ছাড়া প্রথম এক হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী আইজেএনের ‘প্রিমিয়ার হার্ট স্ক্রিনিং’ প্যাকেজে ২০ শতাংশ ছাড় পাবেন। এই প্যাকেজে উন্নত হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির পরীক্ষা, অ্যাবডোমিনাল ইমেজিং, বিস্তৃত ল্যাব পরীক্ষা, শরীরের গঠন বিশ্লেষণ, খাদ্যাভ্যাসবিষয়ক পরামর্শ এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চিকিৎসা পর্যটনকে আরও সহজ করতে আইজেএনে চিকিৎসার জন্য বিদেশ থেকে আসা রোগীদেরও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেখিয়ে তারা বাটিক এয়ারের বিমান ভাড়ায় ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। একই সুবিধা রোগীর সঙ্গে ভ্রমণকারী পরিবারের সদস্যরাও ভোগ করতে পারবেন।
অংশীদারত্বের আওতায় আইজেএনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাটিক এয়ারের করপোরেট ট্রাভেল প্রোগ্রামের সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে বাটিক এয়ারের কর্মী এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা আইজেএনের নির্বাচিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্যাকেজে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন।
বাটিক এয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতুক চন্দ্রন রামা মুথি বলেন, এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে হৃদরোগ শনাক্তে মানুষকে উৎসাহিত করা।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার স্বাস্থ্য পর্যটক চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এ খাত থেকে দেশটির আয় হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত।
আইজেএনের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক দাতো শ্রী ড. মোহাম্মদ এজানি এমডি তাইব বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধ ও আগাম শনাক্তকরণে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম অগ্রাধিকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার মহাপরিচালক মোহদ আমিরুল রিজাল আবদুল রহিম বলেন, চিকিৎসা ও ওয়েলনেস পর্যটন মালয়েশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ এবং ‘মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ খাতের প্রচার আরও জোরদার করা হবে।
গত ১ মে থেকে কার্যকর হওয়া এই অংশীদারত্ব আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।




