ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সোমবার (২০ জুলাই) ডেঙ্গু এখন আর শুধু মৌসুমি রোগ নয়, বরং দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা নিধন নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গু জ্বর বিষয়ক সচেতনতামূলক সায়েন্টিফিক সেমিনারে’ বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, প্রতিবছর ডেঙ্গুর কারণে দেশের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। তিনি জানান, ডেঙ্গুর প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননচক্র ভাঙার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম গুজব ও অপচিকিৎসা পরিহার করে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
সেমিনারে কি-নোট উপস্থাপক ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর-উল আলম (সোহেল) ডেঙ্গুর আধুনিক চিকিৎসা, সতর্ক সংকেত ও প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল ইসলাম মজুমদার বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে থাকা আরটি-পিসিআর মেশিন ব্যবহার করে ডেঙ্গুর সেরোটাইপ শনাক্ত ও গবেষণা জোরদার করা সম্ভব। এতে রোগ নির্ণয় আরও নির্ভুল হবে এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে।
এনডিএফের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




