শিরোনাম

Space for ads

ধোঁয়াশায় আদ্-দ্বীনের ভাগ্য, ২৯৫ বিদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তায়

 প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন   |   মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ধোঁয়াশায় আদ্-দ্বীনের ভাগ্য, ২৯৫ বিদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তায়
Space for ads

 
ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের লাইসেন্স স্থগিত হওয়ার পর সেখানে অধ্যয়নরত প্রায় ২৯৫ জন বিদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী সময়ে পেশাগত স্বীকৃতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কিছু মানুষ ওই হাসপাতালে নিয়মিত প্রসবজনিত সেবা নিয়ে থাকেন; হাসপাতাল বন্ধ থাকায় সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

এমন পরিস্থিতিতে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের নিয়মিত রোগীদের ভবিষ্যৎ কোন পথে সেটি মূল আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। হাসপাতাল স্থায়ীভাবে বন্ধ হলে রোগীরা অন্যত্র চিকিৎসা নিতে পারবেন। কিন্তু মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের পরিণতি কী হবে সে বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা নিবন্ধন পুনর্বহালের আবেদন করেছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য প্রশাসন বলছে, তারা কোনো আবেদন পাননি। ফলে সৃষ্ট ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়ে উঠছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ মে। হাসপাতালটির প্রসূতি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার তদন্তে প্রাথমিকভাবে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে। সে সঙ্গে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর অথবা ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পর থেকেই হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স পুনর্বহালের জন্য উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, আমরা গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব বরাবর আবেদন করেছি। হাসপাতালের যেসব বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের আপত্তি ছিল, যেসব বিষয়ে পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে— সেগুলো সম্পন্ন করেই আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে এখনো কোনো সাড়া পাইনি। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ভারত ও মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৯৫ জন শিক্ষার্থী সেখানে অধ্যয়নরত। এমনকি যারা ইনটার্নশিপ করছেন হাসপাতাল কার্যক্রম চালু না হলে তারাও তাদের প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন না।

বিদেশি শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তাদের নিজ নিজ দেশের মেডিকেল কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী ডিগ্রি সম্পন্নের পর নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংযুক্ত হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হয়। অন্য কোনো হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ স্থানান্তর করা হলে তা নিজ দেশে স্বীকৃতি না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে হাসপাতালের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তাদের শিক্ষাজীবন এবং পেশাগত ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে।

এ সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে তারা বিষয়টির মানবিক ও একাডেমিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর সমাধানের দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে তার ওপর। কলেজের শিক্ষার্থীদের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় আছে, এটা নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

এদিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘদিন স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য পরিচিত। হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহালের দাবিতে সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ রোগী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে এখনো বিবেচনা করার কোনো সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। কারণ লাইসেন্স বাতিল করার পর তাদের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে আমরা এখনো কোনো আবেদন পাইনি।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতক মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ রক্ষায়ও দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। অন্যথায় একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব শত শত শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহাল হবে কি না এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কীভাবে সম্পন্ন হবে সেই প্রশ্নের উত্তরেই তাকিয়ে আছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টরা।

আদ্-দ্বীনের ভাগ্যে কী হতে যাচ্ছে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। তাই আমি কিছুই বলতে পারছি না।
BBS cable ad

মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর আরও খবর: