শিরোনাম

Space for ads

শিশুর খিঁচুনি মানেই মৃগীরোগ নয়

 প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন   |   চিকিৎসা

শিশুর খিঁচুনি মানেই মৃগীরোগ নয়
Space for ads

শিশুর খিঁচুনি দেখলে অভিভাবকদের আতঙ্কিত হওয়াই স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, সব ধরনের খিঁচুনি মৃগীরোগের লক্ষণ নয়।

মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে (নিউরন) অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে খিঁচুনি হতে পারে, আবার রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, শরীরে সোডিয়ামসহ বিভিন্ন লবণের ভারসাম্যহীনতা কিংবা লিভার ও কিডনির জটিলতার কারণেও খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।

অনেকের ধারণা, খিঁচুনি মানেই হাত-পা শক্ত হয়ে ঝাঁকুনি দেয়া। বাস্তবে এর প্রকাশভঙ্গি আরো বৈচিত্র্যময়। কোনো শিশু হঠাৎ কিছুক্ষণ স্থির হয়ে থাকতে পারে, বারবার চোখের পলক ফেলতে পারে, অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে অথবা হাতে থাকা জিনিস ফেলে দিতে পারে। আবার ১-২৪ মাস বয়সী কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ঘুম থেকে ওঠার পর বা ঘুমানোর আগে হাত-পা শরীরের দিকে টেনে এনে বারবার ঝাঁকুনি দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের লক্ষণ অবহেলা করলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কিছু খিঁচুনিতে শিশু অকারণে ভয় পায়, হঠাৎ হাসতে বা কাঁদতে শুরু করে, অস্বাভাবিক গন্ধ বা স্বাদ অনুভব করে কিংবা চোখের সামনে আলোর ঝলকানি বা কানে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পারে। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে নিশ্চিতভাবে খিঁচুনি হচ্ছে, এমনটি বলা যায় না। অনেক সময় আচরণগত বা মানসিক সমস্যাও একই ধরনের উপসর্গ তৈরি করতে পারে।

এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সিউডোসিজার বা নন-এপিলেপটিক খিঁচুনি দেখা যায়, যা দেখতে মৃগীরোগজনিত খিঁচুনির মতো হলেও এর কারণ ভিন্ন। এসব রোগী সাধারণত পুরোপুরি অজ্ঞান হয় না, অনেক সময় চোখ বন্ধ রাখলেও আশপাশের ঘটনা সম্পর্কে কিছুটা সচেতন থাকে। প্রকৃত মৃগীরোগের মতো জিহ্বায় গুরুতর কামড় বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও সাধারণত থাকে না। তাই শুধু বাহ্যিক লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

শিশুর মধ্যে এ ধরনের অস্বাভাবিক উপসর্গ বারবার দেখা দিলে দ্রুত শিশু নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। খিঁচুনির সময়ের ভিডিও চিকিৎসকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। রোগীর ইতিহাস, শারীরিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন হলে ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত খিঁচুনি নাকি অন্য কোনো সমস্যা, তা নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

BBS cable ad

চিকিৎসা এর আরও খবর: