ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালে অত্যাধুনিক বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (BMT) ও সেল থেরাপি সেন্টারের সফট লঞ্চ অনুষ্ঠিত
ক্যান্সার ও জটিল রক্তরোগ চিকিৎসায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার–এ ২১ মে ২০২৬ তারিখে অত্যাধুনিক Bone Marrow Transplantation (BMT) ও Cell Therapy Centre-এর সফট লঞ্চ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ক্যান্সার ও হেমাটোলজি চিকিৎসায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাকিফ শামীম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ডিরেক্টর মাসতুরা ফারজানা মোহনা, সিইও ডা. সম্বিত কুমার দাস, চিফ বিজনেস অফিসার (CBO) মাসুদ আহমেদ, হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন হাসপাতালের চিফ বিজনেস অফিসার মাসুদ আহমেদ। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় অত্যাধুনিক Bone Marrow Transplantation সুবিধার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এই উদ্যোগকে দেশের ক্যান্সার ও জটিল রক্তরোগ চিকিৎসায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
পরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম। তিনি উপস্থিত অতিথি, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসায় উন্নত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ল্যাবএইডের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। এই অত্যাধুনিক BMT ও Cell Therapy Centre দেশের ক্যান্সার ও জটিল রক্তরোগ চিকিৎসায় একটি যুগান্তকারী সংযোজন। তিনি উল্লেখ করেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো এবং দক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্র চিকিৎসাখাতে এক অনন্য নজির স্থাপন করবে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে হয়েছে। ল্যাবএইডের লক্ষ্য সেই বাস্তবতা পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। রোগীকেন্দ্রিক সেবা, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রফেসর ডা. মো. সালাহউদ্দিন শাহ হাসপাতালের নবযাত্রা শুরু করা BMT সেন্টারের আধুনিক সুবিধা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রোগীসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রোগীদের আন্তর্জাতিক মানের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সুবিধা দেশের ভেতরেই পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হবে।
ল্যাবএইডের এই অত্যাধুনিক Advanced BMT & Cell Therapy Centre-এ থাকছে উন্নত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোসহ নিবেদিত BMT ইউনিট, Autologous ও Allogeneic Bone Marrow Transplant Services, আন্তর্জাতিক মানের HEPA-filtered isolation cabins এবং বিশেষজ্ঞ Hematologists, Oncologists ও Transplant Specialists-দের সমন্বয়ে গঠিত দক্ষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম।
এছাড়াও রোগ নির্ণয়ে থাকবে Flow Cytometry, FISH, Cytogenetics ও Molecular Testing-সহ উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা। লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, মাল্টিপল মাইলোমা এবং বিভিন্ন জটিল রক্তরোগের জন্য রোগীকেন্দ্রিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনার পাশাপাশি ২৪/৭ ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন সাপোর্ট, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ট্রিটমেন্ট প্রটোকল এবং পুনর্বাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ডা. এ এম শামীম তাঁর বক্তব্যে হাসপাতালের সার্বিক অগ্রগতি এবং Bone Marrow Transplantation (BMT) সেন্টার নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রোগীদের আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেশের মধ্যেই নিশ্চিত করা ল্যাবএইডের অন্যতম অঙ্গীকার। উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে এই BMT সেন্টার দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বিভিন্ন কনসালটেন্ট ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন এবং এই উদ্যোগকে দেশের ক্যান্সার ও হেমাটোলজি চিকিৎসায় একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালটির হেমাটোলজি ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসকবৃন্দ, যার মধ্যে অন্যতম প্রফেসর ডাক্তার আলমগীর কবির, প্রফেসর ডাক্তার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. মাসুমা আহমেদ সালসাবিল, ডা. মাফরুহা আক্তার ছাড়াও অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকবৃন্দ।
সবশেষে অনুষ্ঠানের ভোট অব থ্যাংক্স ও সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন হাসপাতালের সিইও ডা. সম্বিত কুমার দাস। তিনি এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে রোগীকেন্দ্রিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ল্যাবএইডের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার দেশের ক্যান্সার চিকিৎসায় উন্নত প্রযুক্তি, বিশ্বমানের সেবা এবং রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবার নতুন মানদণ্ড স্থাপনের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। বাংলাদেশের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেশের মধ্যেই পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।




