গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন গাইডলাইন উদ্বোধন বিএমইউতে
ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ গর্ভাবস্থায় ও প্রসবোত্তর সময়ে থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকা (গাইডলাইন) উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি-এর থাইরয়েড টাস্কফোর্সের উদ্যোগে এ উপলক্ষে বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, নতুন গাইডলাইনটি ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিন চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নবজাতকের জন্মের পর থাইরয়েড পরীক্ষা ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সেমিনারে জানানো হয়, নতুন গাইডলাইনটি গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডজনিত জটিলতা, অকাল প্রসব, গর্ভপাত এবং মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসকদের জন্য এটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. ফারিয়া আফসানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মোঃ ফারুক পাঠান। মূল বক্তা ছিলেন ডা. শাহজাদা সেলিম ও ডা. এম সাইফুদ্দিন।
সেমিনারে অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ চারটি সময়ে—জন্মের পর, বয়ঃসন্ধিকালে, গর্ভধারণের আগে এবং ৫০ বছর বয়সের পর—থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুইয়ের সাহায্যে থাইরয়েড টিউমার অপসারণ সম্ভব, যা কম খরচে ও কম ঝুঁকিতে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে।
সেমিনারে থাইরয়েড রোগের লক্ষণ, পুষ্টি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন ও ভিটামিন ডি থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।




