শিরোনাম

Space for ads

হাসপাতালের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা

 প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন   |   কমিউনিটি হাসপাতাল

হাসপাতালের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা
Space for ads


চাঁদপুর মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের এখন রোগের পাশাপাশি আরেকটি ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ভবনের ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সেসব স্থান থেকে নিয়মিত খসে পড়ছে পলেস্তারা, সিমেন্ট ও সুরকি। ফলে হাসপাতালের ভেতরে চলাফেরা করছেন আতঙ্ক নিয়ে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও ফাটল এতটাই স্পষ্ট যে নিচ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে রোগী ও স্বজনরা বারবার ছাদের দিকে তাকাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে অনেককে বাধ্য হয়েই ওই পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও চিকিৎসা সামগ্রীর সংকটে ভুগছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। ১৯২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ১১৬ জন। রয়েছে নার্স সংকট। অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নেই। এক্সরে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতিরও ঘাটতি রয়েছে।


মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছানাউল্লাহ জানান, মেয়েকে নিয়ে তিনদিন হাসপাতালে ছিলাম। দ্বিতীয় তলা থেকে ওষুধ আনতে নামার সময় বারবার ছাদের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হয়েছে। মাঝেমধ্যেই বড় বড় সিমেন্ট-সুরকি খসে পড়ে। এমন আতঙ্কের মধ্যে হাসপাতালে থাকা যায় না। ভয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে।


বরদিয়া এলাকার রোগী শাহনাজ বেগম জানান, মানুষ হাসপাতালে আসে সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে সব সময় ভয় নিয়ে থাকতে হয়। কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে, সেই দুশ্চিন্তা থাকে। আবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষারও অনেক ব্যবস্থা নেই। ভবন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দ্রুত দেয়া উচিত। রোগীর স্বজন ফারজানা জানান, এক ঘণ্টা ধরে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করেছি। কিন্তু আমাদের সবার নজর ছিল ছাদের দিকে। কখন পলেস্তারা খসে পড়ে, সেই ভয়েই সময় কাটাতে হয়েছে।


হাসপাতালের চিকিৎসকরাও ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক জানান, হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন স্থানে ছাদে ফাটল রয়েছে। পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্টের অংশ খসে পড়ছে। মানুষকে সতর্ক করতে বিভিন্ন স্থানে সতর্কীকরণ নোটিশ টানানো হয়েছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যেই নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান জানান, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবন সংস্কারের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য জনবলের সংকটও রয়েছে। সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই আমরা চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছি।


এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম জানান, হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।


এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে ভবনের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। রোগীদের ভাষ্য, চিকিৎসা নিতে এসে যদি ভবনের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কায় থাকতে হয়, তাহলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমবে। তাদের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার এবং জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দূর করতে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হোক।
BBS cable ad

কমিউনিটি হাসপাতাল এর আরও খবর: